কনটেন্টে যান
সব গাইড

Telegram

একাধিক Telegram অ্যাকাউন্ট গুলিয়ে না ফেলে সামলানোর উপায়

ফোন ও ডেস্কটপে Telegram অ্যাকাউন্ট বদলানো, ফোল্ডারে চ্যাট সাজানো, প্রতিটি অ্যাকাউন্টের আলাদা নিরাপত্তা এবং লগইন শেয়ার না করে টিমের কাজ করার নিয়ম।

সূচিপত্র

আরও অ্যাকাউন্ট যোগ করার আগে পরিকল্পনা করুন

একাধিক Telegram অ্যাকাউন্ট চালানো খুবই সাধারণ ব্যাপার: একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল, একটি অফিসের প্রোফাইল, আর হয়তো আপনার সামলানো কোনো ব্যবসা বা কমিউনিটির জন্য আরেকটি। সমস্যা শুরু হয় যখন অ্যাকাউন্টগুলো গুলিয়ে যায়, ভুল অ্যাকাউন্ট থেকে বার্তা চলে যায়, কিংবা কম খোলা অ্যাকাউন্টের কোনো নিরাপত্তা সেটিং অসম্পূর্ণ থেকে যায়। সামান্য পরিকল্পনায় এর বেশিরভাগই এড়ানো যায়।

প্রতিটি অ্যাকাউন্টকে একটি স্পষ্ট ভূমিকা দিন, আর দুটির বেশি অ্যাকাউন্ট সামলালে তা লিখে রাখুন: কোন নম্বর ব্যবহার হচ্ছে, অ্যাকাউন্টটি কীসের জন্য, আর কে এর ওপর নির্ভর করে, এবং রিকভারি ইমেইল ও টু-স্টেপ ভেরিফিকেশনের পাসওয়ার্ড কোথায় রাখা আছে। প্রতিটি অ্যাকাউন্টে আলাদা নাম ও প্রোফাইল ছবি দিন, যাতে এক নজরে চেনা যায়।

অ্যাকাউন্টের সংখ্যা সত্যিকারের প্রয়োজনের মধ্যেই রাখুন। প্রতিটি বাড়তি অ্যাকাউন্ট মানে আরও একসেট সেশন, পাসওয়ার্ড ও নোটিফিকেশনের দেখভাল; আর শুধু গ্রুপে উপস্থিতি বাড়ানো বা গণহারে বার্তা পাঠানোর জন্য অ্যাকাউন্ট খোলা Telegram-এর সার্ভিস শর্তের পরিপন্থী।

ফোনে অ্যাকাউন্ট বদলানো

অফিসিয়াল Telegram অ্যাপে একসঙ্গে একাধিক অ্যাকাউন্টে সাইন ইন থাকা যায়। Android-এ আপনার নামের নিচে সাইড মেনুতে অ্যাকাউন্টগুলো দেখা যায় এবং এক ট্যাপেই বদল করা যায়। iPhone-এ Settings ট্যাব চেপে ধরে তালিকা দেখুন, অথবা Settings খুলে সেখান থেকে অ্যাকাউন্ট বেছে নিন। অ্যাপ প্রতিটি অ্যাকাউন্টের চ্যাট, ড্রাফট ও সেটিংস আলাদা রাখে।

সাইন ইন করা সব অ্যাকাউন্টের নোটিফিকেশন একসঙ্গে আসতে পারে, আর নোটিফিকেশনে ট্যাপ করলে চ্যাট সঠিক অ্যাকাউন্টেই খোলে। এতে গুলিয়ে গেলে নোটিফিকেশন সেটিংসে এমন একটি অপশন আছে যাতে শুধু এখন ব্যবহার করা অ্যাকাউন্টের অ্যালার্ট দেখানো হয়। গ্রুপ ও চ্যানেল প্রতিটি অ্যাকাউন্টে আলাদাভাবে মিউট করা যায়।

সংবেদনশীল কিছু পাঠানোর আগে স্ক্রিনের ওপরের নাম বা অ্যাভাটারের দিকে এক নজর তাকান। এই ছোট অভ্যাসই ভুল অ্যাকাউন্টের বেশিরভাগ ভুল আটকে দেয়।

ডেস্কটপ ও ব্রাউজারে ব্যবহার

Telegram Desktop একাধিক অ্যাকাউন্ট প্রায় একইভাবে সামলায়: সাইড মেনু বা সেটিংস থেকে যোগ করুন এবং এক ক্লিকেই বদল করুন। সারা দিন কম্পিউটারে কাজ করলে অফিসের অ্যাকাউন্ট মূলত ডেস্কটপে আর ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট মূলত ফোনে রাখলে দুটির মধ্যে সহজেই কিছুটা দূরত্ব তৈরি হয়।

ওয়েব ব্রাউজারে সবচেয়ে গোছানো পদ্ধতি হলো প্রতিটি অ্যাকাউন্টের জন্য আলাদা ব্রাউজার প্রোফাইল, যাতে সেশন, সেভ করা লগইন ও ডাউনলোড মিশে না যায়। ডেস্কটপ বা ওয়েবের প্রতিটি লগইন একটি নতুন সেশন তৈরি করে, যা ওই অ্যাকাউন্টের ডিভাইস বিভাগে দেখা যায়।

সাধারণ চ্যাট ও মিডিয়া Telegram-এর ক্লাউডে থাকে, তাই ফোনে যা দেখেন কম্পিউটারেও তা পাওয়া যায়। ব্যতিক্রম সিক্রেট চ্যাট: সেগুলো শুধু যে ডিভাইসে শুরু হয়েছে সেখানেই থাকে, তাই অন্য অ্যাপে সেগুলো আপনার সঙ্গে যাবে বলে আশা করবেন না।

ফোল্ডার দিয়ে গুছিয়ে রাখা

ব্যস্ত অ্যাকাউন্টের জন্য চ্যাট ফোল্ডারই সবচেয়ে কাজের টুল। প্রতিটি অ্যাকাউন্টের নিজস্ব ফোল্ডার সেট থাকে, তাই একটিতে ক্লায়েন্ট, টিম, চ্যানেল ও ব্যক্তিগত নামে ফোল্ডার বানাতে পারেন, অন্যটিতে আরও সহজ একটি সেট। ফোল্ডারে সব গ্রুপ বা সব চ্যানেলের মতো পুরো চ্যাট ধরন রাখা যায়, আবার মিউট করা, পড়া হয়ে যাওয়া বা আর্কাইভ করা চ্যাট বাদ দেওয়া যায়।

শেয়ারযোগ্য ফোল্ডার আরও এক ধাপ এগিয়ে যায়। একটি ফোল্ডারের ইনভাইট লিংক বানালে যে-ই সেটি খোলে সে একসঙ্গে এর সব গ্রুপ ও চ্যানেলে যোগ দিতে পারে; নতুন টিম সদস্যের একগুচ্ছ প্রজেক্ট চ্যাটে ঢোকা দরকার হলে এটি কাজে আসে। এভাবে শুধু গ্রুপ ও চ্যানেল শেয়ার করা যায়, আপনার ব্যক্তিগত কথোপকথন কখনোই নয়।

যে চ্যাট মুছতে চান না অথচ চোখের আড়ালে রাখতে চান সেগুলোর জন্য আর্কাইভ ব্যবহার করুন, আর সবচেয়ে জরুরি কয়েকটি কথোপকথন প্রতিটি ফোল্ডারের ওপরে পিন করুন।

প্রতিটি অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা

নিরাপত্তা সেটিংস প্রতিটি অ্যাকাউন্টের নিজস্ব, তাই মূল প্রোফাইলে শক্তিশালী সেটআপ থাকলে বাকিগুলোর কোনো লাভ হয় না। প্রতিটি অ্যাকাউন্টে অনন্য পাসওয়ার্ড দিয়ে টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন চালু করুন, একটি রিকভারি ইমেইল যোগ করুন এবং নিয়মিত সক্রিয় সেশন দেখুন। আপনার বেছে নেওয়া সময় নিষ্ক্রিয় থাকলে Telegram সেশন নিজে থেকে শেষও করে দিতে পারে।

লোকাল পাসকোড কোনো নির্দিষ্ট ডিভাইসে অ্যাপকে সুরক্ষিত রাখে। অন্যরা মাঝেমধ্যে ব্যবহার করে এমন ল্যাপটপ বা ফোনে এটি সবচেয়ে বেশি জরুরি, কারণ অ্যাপ একবার খোলা হলে ভেতরের প্রতিটি অ্যাকাউন্ট থেকে মাত্র এক ট্যাপ দূরে।

অ্যাকাউন্ট নিজে থেকে মুছে যাওয়ার সেটিংও দেখে নিন। বেছে নেওয়া সময় পর্যন্ত না খোলা অ্যাকাউন্ট চ্যাট ও কন্টাক্টসহ মুছে যেতে পারে, তাই কম ব্যবহারের অ্যাকাউন্টে দীর্ঘতর মেয়াদ বেছে নিন এবং মাঝেমধ্যে সাইন ইন করুন।

কোনো অ্যাকাউন্ট rStock-এর মতো মার্কেটপ্লেস থেকে এলে অন্য কিছু করার আগে সেটি সুরক্ষিত করুন: টু-স্টেপ ভেরিফিকেশনের পাসওয়ার্ড বদলান, রিকভারি ইমেইল হালনাগাদ করুন এবং যেসব সেশন চেনেন না সেগুলো শেষ করুন। কেনা অ্যাকাউন্টসহ আপনার চালানো প্রতিটি অ্যাকাউন্টে Telegram-এর ব্যবহারের শর্তাবলি মেনে চলুন। rStock Telegram-এর সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়, আর Telegram নামটি এর মালিকের।

লগইন শেয়ার না করে টিম হিসেবে কাজ

একই দর্শক বা গ্রাহকগোষ্ঠী সামলাতে একাধিক মানুষ লাগলে একটি অ্যাকাউন্টের লগইন হাতে হাতে ঘোরানোর লোভ এড়িয়ে চলুন। লগইন কোড শেয়ার করা অ্যাকাউন্ট হারানোর একটি সাধারণ কারণ, আর তখন কে কী লিখেছে বোঝাও অসম্ভব হয়ে পড়ে। Telegram-এ এমন টুল আগে থেকেই আছে যাতে প্রত্যেকে নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে কাজ করতে পারে।

চ্যানেল ও গ্রুপের ক্ষেত্রে টিম সদস্যদের অ্যাডমিন করুন এবং প্রত্যেককে শুধু তার দরকারি অধিকার দিন, যেমন পোস্ট করা, সম্পাদনা বা সদস্য ব্যবস্থাপনা। চ্যানেলে স্বাক্ষরিত বার্তায় দেখা যায় কোন অ্যাডমিন পোস্টটি লিখেছেন। গ্রাহকের সঙ্গে কথোপকথনের জন্য একটি গ্রুপ বা বট অনুরোধগুলো একাধিক মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারে, আর বিজনেস অ্যাকাউন্টে নিয়মিত প্রশ্নের জন্য চ্যাটবট যুক্ত করা যায়।

কেউ টিম ছাড়লে একই দিনে তার অ্যাডমিন অধিকার সরান এবং শেয়ার করা ডিভাইসে থাকা তার সেশন শেষ করুন। কার কাছে কী অ্যাক্সেস আছে তার একটি ছোট তালিকা থাকলে কাজটি দ্রুত হয়।

যেসব টুল এড়ানো ভালো

অনেক থার্ড-পার্টি প্রোগ্রাম একসঙ্গে কয়েক ডজন বা শত শত Telegram অ্যাকাউন্ট চালানোর কথা বলে, সাধারণত স্বয়ংক্রিয় বার্তা, গণহারে ইনভাইট বা অটো-জয়েনসহ। এগুলো স্প্যামের জন্য বানানো, Telegram-এর সার্ভিস শর্তের পরিপন্থী, আর প্রায়ই অ্যাকাউন্ট সীমিত বা মুছে যাওয়ার মধ্য দিয়ে শেষ হয়। কিছু টুল সেশন ফাইল আপলোড করতেও বলে, যার মানে টুলটি যে চালায় তার হাতে আপনার অ্যাকাউন্টের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ চলে যায়।

অফিসিয়াল অ্যাপেই থাকুন, সেগুলো একাধিক অ্যাকাউন্ট ভালোভাবেই সামলায়, আর অ্যাপ হালনাগাদ রাখুন। কোনো কাজে অটোমেশন লাগছে মনে হলে Telegram-এর নিয়মের মধ্যে চলা, আপনার নিজের নিয়ন্ত্রণের একটি বট প্রায় সবসময়ই ভালো সমাধান।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন: একাধিক Telegram অ্যাকাউন্ট গুলিয়ে না ফেলে সামলানোর উপায়

আরও পড়ুন

Telegram

দ্বিতীয় Telegram অ্যাকাউন্ট খোলা ও গুছিয়ে ব্যবহারের উপায়

একই অ্যাপে আলাদা নম্বর দিয়ে দ্বিতীয় Telegram অ্যাকাউন্ট চালু করুন, কাজ ও ব্যক্তিগত চ্যাট আলাদা রাখুন, নোটিফিকেশন গুছিয়ে নিন এবং দুটি অ্যাকাউন্টই সুরক্ষিত রাখুন।

গাইড পড়ুন

Telegram

স্প্যাম ছাড়া Telegram থেকে লিড পাওয়ার কার্যকর উপায়

Telegram চ্যানেল, গ্রুপ, অপ্ট-ইন বট, লিড ম্যাগনেট ও বিজ্ঞাপনকে কীভাবে ধারাবাহিক মানসম্মত লিডে বদলাবেন এবং ফল মাপবেন, কোল্ড মেসেজ ছাড়াই।

গাইড পড়ুন

Telegram

Telegram চ্যানেল অর্গানিকভাবে বাড়ানোর ব্যবহারিক পরিকল্পনা

প্রকৃত পাঠক নিয়ে Telegram চ্যানেল বাড়ান: স্পষ্ট বিষয়, খুঁজে পাওয়া যায় এমন নাম, নিয়মিত পোস্ট, ক্রস-প্রমোশন, ডিসকাশন গ্রুপ ও পরিসংখ্যান, ভুয়া সাবস্ক্রাইবার ছাড়াই।

গাইড পড়ুন

Telegram

Telegram-এ সুষ্ঠু ও নিরাপদে গিভঅ্যাওয়ে চালানোর উপায়

মানুষের আস্থা পাওয়া Telegram গিভঅ্যাওয়ে সাজান: স্পষ্ট নিয়ম, বিল্ট-ইন গিভঅ্যাওয়ে টুল বা বট, স্বচ্ছ ড্র, স্থানীয় আইন যাচাই এবং ভুয়া পরিচয়ধারী ঠেকানোর উপায়।

গাইড পড়ুন

Telegram

Telegram অ্যাকাউন্ট হাতে পাওয়ার পরপরই কীভাবে সুরক্ষিত করবেন

কেনার পর Telegram অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত করুন: ক্লাউড পাসওয়ার্ড দিন, রিকভারি ইমেইল যোগ করুন, পুরোনো সেশন শেষ করুন, প্রাইভেসি ঠিক করুন এবং সমস্যা হলে কী করবেন জেনে নিন।

গাইড পড়ুন