কনটেন্টে যান
সব গাইড

Telegram

দ্বিতীয় Telegram অ্যাকাউন্ট খোলা ও গুছিয়ে ব্যবহারের উপায়

একই অ্যাপে আলাদা নম্বর দিয়ে দ্বিতীয় Telegram অ্যাকাউন্ট চালু করুন, কাজ ও ব্যক্তিগত চ্যাট আলাদা রাখুন, নোটিফিকেশন গুছিয়ে নিন এবং দুটি অ্যাকাউন্টই সুরক্ষিত রাখুন।

সূচিপত্র

কেন অনেকে দ্বিতীয় Telegram অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেন

একটি পরিচয় যথেষ্ট না হলে দ্বিতীয় Telegram অ্যাকাউন্ট কাজে আসে। সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো অফিসের কাজ আর ব্যক্তিগত জীবন আলাদা রাখা: ক্লায়েন্ট, সহকর্মী ও পেশাগত কমিউনিটির সঙ্গে যোগাযোগ একটি অ্যাকাউন্টে, পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে অন্যটিতে। কেউ আবার ছোট ব্যবসার জন্য, নিজের চালানো পাবলিক চ্যানেলের জন্য কিংবা শখের কোনো কমিউনিটির জন্য আলাদা অ্যাকাউন্ট রাখেন, যেখানে ব্যক্তিগত প্রোফাইল দেখাতে চান না।

Telegram এটি প্রকাশ্যেই সমর্থন করে: অফিসিয়াল অ্যাপে একসঙ্গে একাধিক অ্যাকাউন্টে সাইন ইন থাকা যায় এবং লগ আউট না করেই এক অ্যাকাউন্ট থেকে অন্যটিতে যাওয়া যায়। তবে কোনো নিষেধাজ্ঞা বা ব্যান এড়াতে, স্প্যাম পাঠাতে কিংবা অন্য কারও ভান করতে বাড়তি অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা Telegram অনুমোদন করে না। আপনার কোনো অ্যাকাউন্টে সীমাবদ্ধতা এলে নতুন অ্যাকাউন্ট খোলার বদলে Telegram-এর অফিসিয়াল আপিল ও সাপোর্টের সুযোগ ব্যবহার করুন।

শুরুর আগে যা লাগবে

প্রতিটি Telegram অ্যাকাউন্ট নিজস্ব ফোন নম্বরের সঙ্গে যুক্ত, তাই আপনার নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি দ্বিতীয় নম্বর দরকার। দ্বিতীয় সিম কার্ড, ডুয়াল-সিম ফোনের eSIM কিংবা আলাদা অফিস লাইন, যেকোনোটিই চলবে। রেজিস্ট্রেশনের সময় এই নম্বরেই লগইন কোড আসে, আর পরে নতুন ডিভাইসে সাইন ইনের ভিত্তিও এই নম্বরই, যদিও পরবর্তী কোড অনেক সময় সরাসরি Telegram অ্যাপের ভেতরেই আসে।

সাময়িক বা পাবলিক এসএমএস নম্বর এড়িয়ে চলুন। প্রথমবার হয়তো কাজ করবে, কিন্তু নতুন কোডের দরকার হলেই অ্যাকাউন্ট হারিয়ে যেতে পারে; তা ছাড়া এ ধরনের নম্বর পরে অন্যদের দেওয়া হয়, ফলে আপনার জন্য আসা কোড অচেনা কারও হাতে পৌঁছাতে পারে। এমন নম্বর বেছে নিন যেটি আপনি বছরের পর বছর ধরে রাখতে পারবেন।

আগে থেকেই ঠিক করে নিন নতুন অ্যাকাউন্টটি দেখতে কেমন হবে: নাম, ইউজারনেম, প্রোফাইল ছবি ও ছোট একটি বায়ো। স্পষ্টভাবে আলাদা একটি ছবি থাকলে যেকোনো মুহূর্তে বোঝা যায় আপনি কোন অ্যাকাউন্টে আছেন, ফলে ভুল প্রোফাইল থেকে বিব্রতকর বার্তা চলে যাওয়ার সম্ভাবনা কমে।

Telegram অ্যাপে অ্যাকাউন্ট যোগ করা

Android-এ সাইড মেনু খুলে আপনার নামের পাশের ছোট তীর চিহ্নে ট্যাপ করুন এবং Add Account বেছে নিন। iPhone-এ Settings ট্যাবে চেপে ধরে Add Account বেছে নিন, অথবা Settings-এ প্রোফাইলের পাশে একই অপশন খুঁজুন। Telegram Desktop-এ সাইড মেনু বা Settings খুলে Add Account বেছে নিন। ভার্সনভেদে লেবেল কিছুটা বদলায়, তবে অপশনটি সবসময় আপনার প্রোফাইলের কাছাকাছিই থাকে।

নতুন ফোন নম্বর দিন, তারপর Telegram-এর পাঠানো কোডটি লিখুন। একেবারে নতুন নম্বরের ক্ষেত্রে কোড সাধারণত এসএমএসে আসে, আর ডিভাইস ও অঞ্চলভেদে ভবিষ্যতের লগইন কোড পাওয়ার জন্য Telegram একটি ইমেইল ঠিকানাও যোগ করতে বলতে পারে। নম্বরটির অ্যাকাউন্ট যদি আগে থেকেই অন্য কোথাও সাইন ইন করা থাকে, কোডটি সাধারণত সেই সেশনেই পাঠানো হয়। শেষে একটি নাম দিন এবং চাইলে ইউজারনেম ও ছবি যোগ করুন।

অ্যাপ প্রতিটি অ্যাকাউন্টকে সম্পূর্ণ আলাদা রাখে: নিজস্ব চ্যাট, কন্টাক্ট, ফোল্ডার, সেটিংস ও ক্লাউড স্টোরেজ থাকে, আর একটি থেকে সাইন আউট করলে অন্যগুলোর কিছু হয় না। একটি অ্যাপে কতগুলো অ্যাকাউন্ট রাখা যায় তার একটি সীমা আছে এবং তা আপনার সাবস্ক্রিপশনের ওপরও নির্ভর করতে পারে, তাই একাধিক অ্যাকাউন্ট নিয়ে পরিকল্পনা করার আগে অ্যাপে বর্তমান সীমাটি দেখে নিন।

নোটিফিকেশন যেন গুলিয়ে না যায়

ডিফল্টভাবে অ্যাপ সাইন ইন করা প্রতিটি অ্যাকাউন্টের নোটিফিকেশন দেখাতে পারে। এটা সুবিধাজনক হলেও বিরক্তিকর হতে পারে, তাই প্রতিটি অ্যাকাউন্টের নোটিফিকেশন সেটিংস খুলে ঠিক করুন কোনগুলো আপনার কাছে পৌঁছাবে। অনেকেই ব্যক্তিগত চ্যাটের নোটিফিকেশন পুরোপুরি চালু রাখেন, অফিসের নোটিফিকেশন শুধু কাজের সময়ে চালু রাখেন এবং দুই অ্যাকাউন্টেই বড় গ্রুপগুলো মিউট করে দেন।

নোটিফিকেশন সেটিংসে এমন একটি অপশনও আছে যা ঠিক করে দেয়, আপনি এখন যে অ্যাকাউন্ট দেখছেন না সেগুলোর অ্যালার্ট আদৌ আসবে কি না। এটি বন্ধ করলে শুধু সক্রিয় অ্যাকাউন্টের নোটিফিকেশনই পাবেন, যা সন্ধ্যায় কাজের চাপ পেছনে ফেলতে চাওয়া মানুষের জন্য উপযোগী। জরুরি চ্যাটের জন্য আলাদা সাউন্ড এবং ফোনের নিজস্ব ফোকাস বা কোয়ায়েট মোডও কাজে আসে।

নোটিফিকেশনে ট্যাপ করলে চ্যাট সঠিক অ্যাকাউন্টেই খোলে, তবু উত্তর দেওয়ার আগে দেখে নিন আপনি কোন প্রোফাইলে আছেন, বিশেষ করে যখন দুটি কথোপকথন দেখতে প্রায় একই রকম।

কাজ ও ব্যক্তিগত জীবন আলাদা রাখা

আলাদা রাখা মূলত অভ্যাসের ব্যাপার। প্রতিটি অ্যাকাউন্টে চ্যাট ফোল্ডার ব্যবহার করুন, যেমন অফিসের অ্যাকাউন্টে ক্লায়েন্ট, টিম ও চ্যানেল, যাতে চ্যাট তালিকা গোছানো থাকে। গোপনীয়তার সেটিংসও আলাদা রাখুন: ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে কন্টাক্ট ছাড়া বাকিদের কাছ থেকে ফোন নম্বর ও সর্বশেষ দেখার সময় লুকিয়ে রাখতে পারেন, আর অফিসের অ্যাকাউন্টে পাবলিক ইউজারনেম দেখালেও নম্বরটি গোপন রাখতে পারেন।

স্পষ্ট কারণ না থাকলে একই মানুষদের দুই অ্যাকাউন্টেই যোগ করবেন না। কন্টাক্ট মিশে গেলে আলাদা করার উদ্দেশ্যই নষ্ট হয় এবং ব্যক্তিগত কিছু ভুল জায়গায় ফরোয়ার্ড হয়ে যাওয়া সহজ হয়ে যায়। কোনো সহকর্মী ভবিষ্যতে অফিসের অ্যাকাউন্টের দায়িত্ব নিতে পারেন এমন সম্ভাবনা থাকলে প্রথম দিন থেকেই ব্যক্তিগত ফাইল ও চ্যাট সেখান থেকে দূরে রাখুন।

শেয়ার করা বা অফিসের ফোনে একটি লোকাল পাসকোড দিন, যাতে Telegram খুলতে কোড লাগে। মনে রাখবেন, আনলক করা অ্যাপ হাতে পেলে যে কেউ এক ট্যাপেই আপনার অ্যাকাউন্টগুলোর মধ্যে বদল করতে পারে।

দুটি অ্যাকাউন্টই সুরক্ষিত করা

প্রতিটি অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা সেটিংস আলাদা, তাই দুটিতেই সেটআপ করুন। শক্তিশালী ও অনন্য পাসওয়ার্ড দিয়ে টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন চালু করুন এবং এমন একটি রিকভারি ইমেইল দিন যেটিতে আপনি সত্যিই ঢুকতে পারেন। ডিভাইস বিভাগের সক্রিয় সেশনের তালিকা দেখুন এবং যেগুলো চেনেন না সেগুলো শেষ করে দিন।

গোপনীয়তা বিভাগের নিষ্ক্রিয়তা সেটিংটির দিকে নজর দিন। আপনার বেছে নেওয়া সময় পর্যন্ত ব্যবহার না করা হলে Telegram অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলতে পারে, যা মাঝেমধ্যে খোলা দ্বিতীয় অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে বাস্তব ঝুঁকি। দীর্ঘতর মেয়াদ বেছে নিন, অথবা মাঝেমধ্যে অ্যাকাউন্টটি খুলে দেখুন।

লগইন কোড কাউকে জানাবেন না, এমনকি যারা নিজেদের Telegram সাপোর্ট বলে দাবি করে তাদেরও নয়। টু-স্টেপ ভেরিফিকেশনের পাসওয়ার্ড নিজের সঙ্গে নিজের চ্যাটে না রেখে পাসওয়ার্ড ম্যানেজারে রাখুন।

তৈরি অ্যাকাউন্ট নেওয়ার কথা ভাবলে

কেউ কেউ নতুন নম্বর নিবন্ধন না করে আগে থেকে থাকা অ্যাকাউন্ট দিয়েই শুরু করতে চান। rStock-এর মতো মার্কেটপ্লেসে স্বাধীন স্টোরগুলো Telegram অ্যাকাউন্ট তালিকাভুক্ত করে; rStock প্ল্যাটফর্ম, বিক্রেতা নয়, স্টোরগুলো বিক্রির আগে অনুমোদিত হয় এবং প্রতিটি লিস্টিং লাইভ হওয়ার আগে পর্যালোচনা করা হয়। rStock Telegram-এর সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়, আর Telegram নামটি এর মালিকের। যা-ই বেছে নিন, অ্যাকাউন্ট কেনা বা ব্যবহারের সময় Telegram-এর ব্যবহারের শর্তাবলি মেনে চলুন।

কেনার আগে স্টোরের পাবলিক প্রোফাইলে বিক্রয়ের সংখ্যা, রেটিং ও বিমা ব্যালেন্স দেখে নিন। পেমেন্টের পর ডেলিভারি করা বিবরণ আপনার অর্ডার পেজে ডেলিভারি রেকর্ড হিসেবে দেখা যায়। সাইন ইন করে নিজের টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন পাসওয়ার্ড দিন, রিকভারি ইমেইল বদলান এবং আপনার নয় এমন প্রতিটি সেশন শেষ করুন। আপনার অর্থ ধরে রাখা হয়, পেমেন্টের পরপরই স্টোরের কাছে ছাড়া হয় না; আর কিছু ঠিক না থাকলে ডেলিভারির পর সীমিত সময়ের মধ্যে আপনি বিরোধ খুলতে পারেন।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন: দ্বিতীয় Telegram অ্যাকাউন্ট খোলা ও গুছিয়ে ব্যবহারের উপায়

আরও পড়ুন

Telegram

স্প্যাম ছাড়া Telegram থেকে লিড পাওয়ার কার্যকর উপায়

Telegram চ্যানেল, গ্রুপ, অপ্ট-ইন বট, লিড ম্যাগনেট ও বিজ্ঞাপনকে কীভাবে ধারাবাহিক মানসম্মত লিডে বদলাবেন এবং ফল মাপবেন, কোল্ড মেসেজ ছাড়াই।

গাইড পড়ুন

Telegram

Telegram চ্যানেল অর্গানিকভাবে বাড়ানোর ব্যবহারিক পরিকল্পনা

প্রকৃত পাঠক নিয়ে Telegram চ্যানেল বাড়ান: স্পষ্ট বিষয়, খুঁজে পাওয়া যায় এমন নাম, নিয়মিত পোস্ট, ক্রস-প্রমোশন, ডিসকাশন গ্রুপ ও পরিসংখ্যান, ভুয়া সাবস্ক্রাইবার ছাড়াই।

গাইড পড়ুন

Telegram

একাধিক Telegram অ্যাকাউন্ট গুলিয়ে না ফেলে সামলানোর উপায়

ফোন ও ডেস্কটপে Telegram অ্যাকাউন্ট বদলানো, ফোল্ডারে চ্যাট সাজানো, প্রতিটি অ্যাকাউন্টের আলাদা নিরাপত্তা এবং লগইন শেয়ার না করে টিমের কাজ করার নিয়ম।

গাইড পড়ুন

Telegram

Telegram-এ সুষ্ঠু ও নিরাপদে গিভঅ্যাওয়ে চালানোর উপায়

মানুষের আস্থা পাওয়া Telegram গিভঅ্যাওয়ে সাজান: স্পষ্ট নিয়ম, বিল্ট-ইন গিভঅ্যাওয়ে টুল বা বট, স্বচ্ছ ড্র, স্থানীয় আইন যাচাই এবং ভুয়া পরিচয়ধারী ঠেকানোর উপায়।

গাইড পড়ুন

Telegram

Telegram অ্যাকাউন্ট হাতে পাওয়ার পরপরই কীভাবে সুরক্ষিত করবেন

কেনার পর Telegram অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত করুন: ক্লাউড পাসওয়ার্ড দিন, রিকভারি ইমেইল যোগ করুন, পুরোনো সেশন শেষ করুন, প্রাইভেসি ঠিক করুন এবং সমস্যা হলে কী করবেন জেনে নিন।

গাইড পড়ুন